ঢাকা
১৭ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

দুর্যোগে সমাজের অসহায় মধ্যবিত্তদের পাশে দাঁড়াই

আমাদের এই বাংলাদেশ উচ্চবিত্ত মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত এই তিন শ্রেনীর মানুষের নিয়েই বসবাস। এদের মধ্যে উচ্চ ও নিম্নবৃত্ত মানুষদের চেনা যায় কিন্তু মধ্যবিত্ত মানুষদের কখনো চেনা যায় না!!

সমাজে একটি কথায় আছে বুক ফাটে তো মূখ ফোটে না। তাদের (মধ্যবিত্ত) স্বভাব এমনটাই ধরা যেতে পাড়ে। দেশে যত বড়ই দুর্যোগ আসুক না কেন তারা তা মানিয়ে নিতে পারে সবসময় খেয়ে না খেয়ে।

অসহায় হতদরিদ্র ও কর্মহীন মানুষদের জন্য প্রতিদিনই কোন না কোন জায়গা থেকে খাদ্য সামগ্রী আসে।

কেউ ১০০/২০০/৫০০ শত পরিবারের খাদ্য সামগ্রী এনে তাদেরকে বিলিয়ে দেয়। খাদ্য সামগ্রী পেয়ে অসহায় হতদরিদ্র কর্মহীন মানুষ গুলো কোনভাবে বেচে গেল। উচ্চবিত্তদের নিয়ে তো কিছু বলার নেই। শুধুই মধ্যবিত্ত রয়ে গেল বিপাকে। তারা তো জন সমাগমে এসে আপনাদের কাছ থেকে -সাহায্য নিতে চক্ষুলজ্জার ভয়ে। এমনকি এই শ্রেনীর মানুষেরা না খেয়ে থাকলেও মুখফোটে কাউকে কিছু বলে না। এ অভ্যাসটিও তাদের নেই। নিশ্চুপ হয়ে নিজ গৃহে খেয়ে না একাকিত্ব জীবন যাপন করতে জানে একমাত্র মধ্যবিত্তরাই। কিন্তু এই সমাজে মধ্যবিত্তদের মাঝে গোপনে, গোপনে ছবি না তুলে তাদের গৃহে খাদ্য সামগ্রী পোঁছে দেওয়া কি আমাদের নৈতিক কর্তব্য নয়?

সাম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। এ ভাইরাস ঠেকাতে দেশজুড়ে চলছে অঘোষিত লকডাউন। এ কারনেই দেশজুড়ে অসহায় হতদরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তাদের (অসহায়দের, হতদরিদ্র ও কর্মহীন) মানুষকে প্রতিনিয়তই পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে খাদ্য সামগ্রী। হাতে গোনা কিছু মধ্যবিত্ত পরিবার ও পাচ্ছে তবে সেটা খুবই সামান্য। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিপাকে রয়েছেন অধিকাংশ মধ্যবিত্তরাই।

বৈশ্বিক এ মহামারীর প্রাদুর্ভাব যেমন দিনদিন বেড়েই চলছে তেমনি মধ্যবিত্তরা দিন দিন অসহায় হয়ে পড়েছেন।

উল্লেখ্য,প্রতিদিনই সামাজিক মাধ্যম এবং অনলাইন গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে দেশে অসহায় হতদরিদ্র কর্মহীন পরিবারে মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
যারা এই খাদ্য সামগ্রী বিতরনের মত মহৎ কাজের উদ্যোগ নিয়েছেন আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি আপনারা যদি এই অসহায় হতদরিদ্র ও কর্মহীন মানুষদের পাশাপাশি মধ্যবিত্তদেরও মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন তাহলে দেশে এই সমস্ত দুর্যোগের মধ্যে মধ্যবিত্ত পরিবারের কেউই অনাহারে দিন কাটতে হতো না।

মানুষের জন্য মানবতা, মানবতার জন্যই মানুষ, আসুন নিজেকে আত্মনিবেদন করি এবং অন্যকে এতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সমাজে মুখ বুজে যারা সহ্য করছে তাদের পাশে দাঁড়াই।

লেখক: মোঃ আরিফুর রহমান
সম্পাদক ও প্রকাশক
সময়ের গর্জন

আরও পড়ুন

Somoyergorjon Anniversary
দুই পেরিয়ে তিনে সময়ের গর্জন
নেটওয়ার্ক মার্কেটিং এর মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ সম্ভব -মোঃ আরিফুর রহমান
অনাকাংখিত ধ্বংসের দারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে আমাদের মানবতা
ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হোক প্রতিটি হৃদয়
মানুষ স্বপ্নেও ভাবিনি, কল্পনাও করেনি
আলো আসবেই…
করোনায় আতংকিত না হয়ে নিজের উপর আস্থা রাখি
করোনার বিরুদ্বে ধৈর্য নিয়ে লড়ে যেতে হবে