ঢাকা
২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

যাদের উপর কুরবানি ওয়াজিব এবং কুরবানি না করার শাস্তি

জিয়াদ হাসান রাসেল:  ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ে যেসব প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক, মুকিম ব্যক্তির কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে অর্থাৎ স্বীয় হাজাতে আসলিয়্যাহ (পানাহার, বাসস্থান, উপার্জনের উপকরণ ইত্যাদি) ছাড়া অতিরিক্ত এ পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, যা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্যের মূল্যের সমপরিমাণ (টাকার অংকে আনুমানিক ৫৫ হাজার টাকা) হয়, সে ব্যক্তির ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা-পয়সা, সোনা-রুপা, অলংকার, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজনে আসে না এমন জমি, প্রয়োজনের অতিরিক্ত বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র, পোশাক-পরিচ্ছেদ, আসবাবপত্র, তৈজসপত্রও ধর্তব্য হবে। সে সম্পদের ওপর এক বছর অতিক্রম হওয়া শর্ত নয়। পাগল ব্যক্তির কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেও তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না।

মুসাফিরের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়। মুসাফির ব্যক্তি কোরবানির দিনগুলো অতিবাহিত হওয়ার পর যদি বাড়ি ফিরে আসে, তাহলেও তার ওপর কোরবানির কাজা করা লাগবে না। -ফাতাওয়া কাজিখান ৩/৩৪৪; বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৫ প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য নিজের পক্ষ থেকে কোরবানি করা ওয়াজিব। তার স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও বাবা-মায়ের পক্ষ থেকে কোরবানি করা ওয়াজিব নয়। যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, সে কোরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করলে সে পশু কোরবানি করা তার ওপর ওয়াজিব হয়ে যায়। যে ব্যক্তি প্রতি বছর নিজ প্রাপ্তবয়স্ক ছেলের পক্ষ থেকে কোরবানি করেন, তার জন্য নতুন করে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব, সে যদি কোনো কারণবশত কোরবানি না করে, তাহলে কোরবানির দিনগুলো চলে যাওয়ার পর একটি বকরির মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। সক্ষম ব্যক্তি কোরবানি না করার শাস্তি: —————— কোরবানি আত্মত্যাগের অন্যতম ইবাদত। এ ইবাদত জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখ সন্ধ্যা পর্যন্ত পালন করা যায়। সে হিসেবে এবার বাংলাদেশে বুধবার থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পালন করা যাবে। উল্লেখিত ৩ দিনের মধ্যে যার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকবে তার ওপর কোরবানি করা আবশ্যক। আর এ নিসাব হলো- সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সমপরিমাণ অর্থ অথবা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা কিংবা তার সমপরিমাণ অর্থ থাকা। সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ কোরবানি না দেয়; সে ব্যক্তির ব্যাপারে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কঠোর হুশিয়ারি ঘোষণা করেন। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যার সামর্থ্য আছে তবুও সে কোরবানি করল না (অর্থাৎ কোরবানি করার সংকল্প তার নেই) সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।’ (মুসনাদে আহমদ, মুসতাদরেকে হাকেম)

আরও পড়ুন

জুমার দিনের ফজিলত ও বিশেষ আমল
কুরবানীর ইতিহাস ও গুরুত্ব
ঈদুল আজহা ২১ জুলাই
জিলহজ মাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
সৌদিতে ঈদুল আজহা ২০ জুলাই
ধৈর্যশীলদের প্রতি আল্লাহর রহমত
পৃথিবী মমতাহীন হয়ে যেন না যায়
দুবাইয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন দুই হাজারের বেশি প্রবাসী